যুক্তরাজ্যে বাঙালি কিশোরকে পেটাল পাকিস্তানি পরিবার

0
90
পাকিস্তানি পরিবারের চার সদেস্য। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানি পরিবারের চার সদেস্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাশায়ারে পাকিস্তানি এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারণে তার পরিবারের সদস্যরা মিলে এক বাঙালি কিশোরকে পিটিয়েছে।

ব্রিটিশ দৈনিক দি সান ও ডেইলি মেইল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে সংঘটিত এই ঘটনার মামলা প্রেসটন ক্রাউন কোর্টে ওঠে। আদালতে বাঙালি ওই স্কুলছাত্র তাকে নির্দয়ভাবে পেটানোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

ব্ল্যাকবার্নের বাসিন্দা বাঙালি ওই কিশোরের আইনজীবীরা আদালতে তিনি জাতিগত বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হয়েছেন বলে তুলে ধরেছেন। তবে তার নাম -পরিচয় প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ গণমাধ্যম। ওই ছাত্র বলেছেন, হামলার পর থেকে এখন একা একা বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় পান তিনি।

এতে পাকিস্তানি কিশোরীর বাবা ট্যাক্সিচালক মির্জা বেগ (৪৮), ভাই খিজাম বেগ (২৯), চাচা গজনফর বেগ (৩৭) এবং চাচাত ভাই সাকিব মির্জা বেগ (২৯) দোষি সাব্যস্ত হয়েছেন। আগামী সপ্তাহে বিচারক তাদের দণ্ড ঘোষণা করবে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ মার্চ বাঙালি ওই স্কুলছাত্রের সঙ্গে ভাতিজিকে দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গজনফর। তিনি প্রথমে ভাতিজিকে নিজের গাড়িতে তুলে বাসায় রেখে ফিরে এসে বাঙালি কিশোরটিকে গাড়িতে তুলে নেন।

ওই কিশোর জানায়, গাড়িতে তুলে নেওয়ার সময় তিনি বুঝতে পারেননি যে তাকে মারা হবে। কিন্তু তোলার পরই গাড়ির দরজা বন্ধ করে গজনফর ফোন করে ডেকে আনেন পরিবারের অন্য সদস্যদের, তারপর সবাই মিলে চড়াও হন তার উপর। এ সময় গজনফর বলেছিলেন, ‘আমাদের রক্ত দূষিত করো না, তোমাদের মতো কাউকে বেছে নাও।’

পরে গজনফরের ডাকে আসার পর তার ছেলে কলেজছাত্র সাকিব প্রথমে ওই কিশোরের মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন। সেখানে চাচাত বোনের ছবি দেখার পর উত্তেজিত হয়ে প্রথমে তার নাকে ঘুষি মারেন। তারপর সবাই মিলে পেটাতে থাকেন। এ সময় একজন ‘একে মেরে ফেল, মাথায় আঘাত কর, শেষ করে দাও’ বলে চ্যাঁচাচ্ছিলেন বলে বাঙালি কিশোর আদালতে জানিয়েছেন।

মারধরের পর একটি সেলুনের পাশে ওই কিশোরকে ফেলে রেখে যায় পাকিস্তানি ওই পরিবার। পরে স্থানীয়রা কে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। মাথায় গুরুতর জখমের চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ছেলেটি এখনও মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এজন্য স্কুলের কাউন্সেলর কাজ করছেন তাকে নিয়ে।

এদিকে পেটানোর কথা অস্বীকার না করলেও পাকিস্তানি ওই অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, জাতিগত কোনো বিদ্বেষ থেকে এই ঘটনা ঘটাননি তারা।

LEAVE A REPLY