কেন এলিয়েনদের মেনে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা!

0
97
কেন এলিয়েনদের মেনে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা!
কেন এলিয়েনদের মেনে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা!

জনপ্রিয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি এলিয়েন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা ডিওডি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অজানা নভোযান শনাক্তে ২২০ কোটি ডলার অর্থায়ন করে। কিন্তু এসবই হয়েছে জনগণের কাছ থেকে আড়াল করে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ইউএফও বিশ্বাসীরা তো বটেই অবিশ্বাসীরাও নানা প্রশ্ন তোলেন। নভোমণ্ডলে এতদিন ধরে মানুষই একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী বলে সবার জানা ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোও এতদিন দাবি করেছে, মহাকাশে ভীনগ্রহের প্রাণী থাকার বিষয়টি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়! কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর পুরো বিষয়টিই উল্টে গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সায়েন্টিফিক আমেরিকান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নেভাডার এরিয়া ৫১’এর মতো রহস্যময় ঘাঁটির কর্মকাণ্ড ফাঁস হতে বোধহয় বেশিদিন লাগবে না। বিজ্ঞানীদের ইউএফও ও এলিয়েন তত্ত্বেও হয়তো পরিবর্তন আসবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেরিতে হলেও বিষয়টি প্রকাশের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক হাই প্রোফাইল মানুষ এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ধারণাও একই। তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে এলিয়েন এরই মধ্যে ঘুরে গেছে।

মার্কিন বিমানবাহিনীতে কর্মরত একাধিক পাইলট আকাশে এমন সব অচেনা যান ইউএফও দেখেছেন, যা তাদের আবিস্কৃত বিমানের চাইতে অনেক উন্নত। সেগুলো গতি ও দিক এতটাই দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে যা মানুষের উদ্ভাবিত কোনো বিমানেই সম্ভব নয়। এমন দাবির স্বপক্ষে তারা সেসব যানের ভিডিও ধারণও করেছেন।

মার্কিন সরকার যে ইউএফও নিয়ে গোপনে গবেষণা করছেন তা নিয়ে বহু আগে থেকেই সন্দেহ ছিল। লাস ভেগাসে এমন বেশ কিছু গোপন স্থাপনা রয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু সেসব স্থাপনায় নিয়মিত নানা উপকরণ আনা-নেয়া করা হয়, যা থেকে অনেকেরই এ বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস’এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের অন্যতম রচয়িতা ছিলেন র‍্যালফ ব্লুমেন্থাল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসএনবিসি’কে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সরকারের কাছে ইউএফও ও এলিয়েন বিষয়ক প্রচুর নথিপত্র রয়েছে। কিন্তু সেগুলো এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় যে তা বাইরের মানুষের কাছে আসার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

উদাহরণ হিসেবে র‍্যালফ বলেন, তার সঙ্গে এমন অনেক সাবেক ও বর্তমান বিজ্ঞানী এবং কর্মকর্তার পরিচয় হয়েছে। যারা বলেছেন, সেসব নথি তাদেরকে গোপনে পড়তে দেয়া হত। কিন্তু কাজের পর সেগুলো আবারও তাদের কাছ থেকে নিয়ে যেত সরকারের সে সব মহলের মানুষেরা।

র‍্যালফ তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সেসব গোপন নথি কোথায় যায়? কিন্তু জবাবে তারা জানিয়েছেন, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। এক কথায় বলতে গেলে, বহির্জাগতিক বিষয় সম্পর্কে গবেষণা কাজ ছাড়া আর কিছুই তারা করতে পারতেন না। যেসব বিজ্ঞানী এবং কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতেন তারা বাইরে মুখ খুললেও তা প্রমাণের অযোগ্য ছিল। কেননা তাদের কাছে সরকারের উচ্চ মহল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরবরাহ করা হলেও কাজ শেষে তা ফিরিয়ে নেয়া হত। তারা এতটাই নজরদারিতে থাকতেন যে সেগুলো সরিয়ে ফেলার কোনো সুযোগই হতো না।

কারও কারও এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে যে, অত্যন্ত গোপনীয়তার মাঝে তাদের কোনো বিশেষ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই স্থানটি সম্পর্কে তাদের ধারণাই থাকতো না। অর্থাৎ গবেষণার জন্য কোথায় তাদের নেয়া হতো সে বিষয়টিও থাকতো গোপনীয়তার বেড়াজালে।

এ প্রসঙ্গে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি প্যানেলের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড স্ক্যালেবেন সম্প্রতি লাইভ সায়েন্সকে জানান, এলিয়েন বিষয়ে মার্কিন সরকারের গবেষণা প্রসঙ্গে কারও মন্তব্য করার সুযোগ এক কথায় অসম্ভব একটি ব্যাপার।

রিচার্ড নিজেও মার্কিন সরকারের নানা এলিয়েন বিষয়ক গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার মতে, গোপনীয়তার পাশাপাশি তাদের এসম্পর্কে কথা বলতেও নিষেধ করা হতো। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস কারও হতো না।

ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মে নিম্যান জানান, চেনা এবং অচেনা নানা ধাতব পদার্থ সম্পর্কে মার্কিন সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। পৃথিবীর বাইরের ধাতব পদার্থ নিয়ে কাজ করা এই বিজ্ঞানীর মতে, স্বর্ণ শুধু উজ্জ্বলতার জন্য দামি বস্তু নয়! এর সঙ্গে অনেক পদার্থের বিক্রিয়া ঘটালে নানা আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটে থাকে।

তিনি জানান, তার কাছে এমন সব ধাতব বস্তু পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছিল যা পৃথিবীর ছিল না। সেসব ধাতু পরীক্ষা করে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান, সেসব ধাতু উন্নত গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হোক। কিন্তু তার সেই আবেদনে তারা সাড়া দেননি। বরং অতি উৎসাহ দেখানোয় পরবর্তীতে ধাতু পরীক্ষার সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হন।

নিম্যানের ধারণা, সেসব ধাতব বস্তু পরীক্ষা করলে হয়তো জানা যেতে পারে ভীনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা কিভাবে লক্ষ লক্ষ আলোক বর্ষের দূরত্বকে হার মানিয়ে চলাচল করে থাকে। তাদের জ্বালানীর উৎসই বা কি! কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করলেও সাধারণ মানুষের তা জানার সুযোগ নেই।

LEAVE A REPLY