তারেক-বাবরদের ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

0
72
তারেক-বাবরদের ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
তারেক-বাবরদের ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান বাবরসহ ৪৯ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ সোমবার পুরান ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্ক শুনানির শেষ দিনে এ আবেদন করেন।

গত ২৩ অক্টোবর থেকে আলোচিত এ মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়ে ২৭ ডিসেম্বর তা শেষ হয়। আজ মামলাটির আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমানের সহকারী আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করে আগামীকাল ফের আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন রাখেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ , ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, বাবু ওরফে রাতুল বাবু, আনিসুল মোর্সালিন, তাঁর ভাই মুহিবুল মুক্তাকীন, মাওলানা তাজুল ইসলাম, জঙ্গি নেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর, মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, হারিছ চৌধুরী, মাওলানা তাজউদ্দিন, বাবু ওরফে রাতুল বাবু,সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

হামলায় আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ দলের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন।

এ ছাড়া আহত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, সাহারা খাতুন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, নাসিমা ফেরদৌস, রুমা ইসলামসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

এই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মতিঝিল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর রশীদ হয়ে মুন্সী আতিকুর রহমানের কাছে যায়।

অভিযোগ আসে, মুন্সী আতিক ও আবদুর রশীদ মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য জজ মিয়া নাটক সাজান। তাঁর কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়। পরিবারকে প্রতি মাসে টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়। মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) মামলার তদন্ত করে।

২০০৮ সালের ১১ জুনে এ মামলার প্রথম অভিযোগপত্র দেন সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর।

এতে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মুফতি হান্নান ছিলেন ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তাদের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করা। এ ছাড়া ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভূমিকা ছিল বলেও বলা হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য দায়িত্ব পান পুলিশের বিশেষ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ।

পুনর্তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩ জুলাই তিনি আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ওই অভিযোগপত্রে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ছাড়া গ্রেনেড হামলার দায় স্বীকার করে ঢাকার সিএমএম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন আসামি। তাঁরা হলেন মুফতি হান্নান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ হাসান সুমন ও রফিকুল ইসলাম সবুজ। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলার মামলার মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

LEAVE A REPLY