রাজশাহীর বাঘার বাজারে আসতে শুরু হয়েছে মিষ্টি মধুর খেজুর গুড়। মৌসুমের শুরুতেই আমদানি স্বল্প হলেও কমতি নেই চাহিদার। গুড় বাজারে আসতে না আসতেই তাৎক্ষনিক বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ঢাকি সাজিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে না গাছিদের। আর চাহিদা ভাল হওয়ায় দামও যাচ্ছে ভালো। ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ভালো মানের গুড়। আশানুরূপ দাম পাওয়ায় গাছিরাও খুশি।
খেজুরর গুড় বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেজুরের গুড় ছাড়া শীতকালে পিঠা-পায়েস তৈরির কথা ভাবাই যায় না। শীত আসার সাথে সাথে সারাদেশে খেজুরগুড় তৈরি ধুম পড়ে যায়। গাছিরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে রসসংগ্রহ, রসজ্বাল ও গুড় তৈরির কাজে।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার বাঘা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকি ও ক্যারেট বোঝাই করে গুড় বিক্রির জন্য হাটে আসছেন গুড় প্রস্তুতকারীরা। আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ক্ষণিকেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে তাদের সুস্বাদু মিষ্টি মধুর খেজুর গুড়। প্রতি কেজি গুড় বিক্রি ৭০-৭৫ টাকা দরে।
উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার গুড় প্রস্তুতকারী সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো তার নিজস্ব ও লিজ নেওয়া মোট ৬০টি খেজুর গাছ রয়েছে। দাম বেশি পাওয়ার আশায় আগাম গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। বর্তমানে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি গুড় তৈরি করতে পারছেন। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সংগৃহীত রসের পরিমাণও বেড়ে যাবে। এই রস জাল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কেজি গুড় তৈরি করতে পারবেন বলে জানান তিনি। যা দিয়ে তার পরিবারেরর খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন।
গুড় ব্যবসায়ী আতাউর রহমান মামুন জানান, বাঘা একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসলের মধ্যে খেজুর গাছ একটি মূল্যবান সম্পদ। প্রতি বছর শীত মৌসুমে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয় গুড় বিক্রি ও ব্যবসা করে। তার মতে, শীতের তীব্রতা কম থাকায় এখন গুড়ের আমদানি কম। যে পরিমাণ গুড় ক্রয় করে এলাকার বাইরে পাঠাচ্ছি তাতে লাভও হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, বাঘা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার চরাঞ্চলেও খেজুর গাছ তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একটু যতœ নিলেই খেজুর গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। যা থেকে শীত মৌসুমে খরচের সংসারের ব্যয় মিটিয়ে আয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে পতিত জমিতে খেজুর গাছ লাগানো গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও গুড় রপ্তানি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY