ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে ‘রকিবউদ্দিন মার্কা’ নির্বাচন কমিশন হলে দেশ চরম অস্থিতিশীল হবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। সেজন্য নতুন ইসি গঠনে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে দলটি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, কাজী রকিব মার্কা নির্বাচন করতেই শাসকদল রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করে তীব্র আওয়ামী অনুভূতিসম্পন্ন সার্চ কমিটি গঠন করতে চায়। শাসকদল এমন অশুভ ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটালে দেশ চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।
নতুন ইসি গঠনে বিএনপি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ চায় জানিয়ে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করলে সেটি যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেরই প্রতিফলন হবে সেই বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। সেই নির্বাচনের পরিণতি কী হবে সেটির দৃষ্টান্ত কাজী রকিবউদ্দিনের নির্বাচন কমিশন দেশবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে।
আগামী শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের রূপরেখা দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টিন হোটেলে বিকেল ৪টায় বিএনপি নেত্রী দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে একটি রুপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার পর পুলিশ সাাজানো মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সেখানে ১৮ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সাথে বিএনপির নাসিরনগর উপজেলার সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেনের নামও জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে শুধু গায়ের জোরে নিজেদের অপকর্মের ভারসাম্য আনার জন্য। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল শুধু হাস্যকরই নয়, বরং এটি তাদের দুষ্কর্মকে ঢেকে দেয়ার অপচেষ্টা।
পুলিশের প্রতিবেদনে বিএনপি নেতাদের নাম জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাখান করে রিজভী বলেন, পুলিশ মূলত: স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীকে বাঁচাতেই এই সাাজানো মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরী করেছে।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে যতগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলেই সংঘটিত হয়েছে। এরসাথে জড়িত ছিলেন স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীরা। প্রকৃতপক্ষে সরকার আওয়ামী মন্ত্রী, এমপি ও নিজ দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাঁচাতেই বিএনপির দু’একজন স্থানীয় নেতার নাম প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও শাসকদলের নেতাকর্মীরা হামলা ও গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশীদ, এমরান সালেহ প্রিন্স, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY