শহীদ কাদরী’র কবিতা আমাকে ভাবতে শেখায় – নীরা কাদরী

0
72
শহীদ কাদরী’র কবিতা আমাকে ভাবতে শেখায় – নীরা কাদরী
শহীদ কাদরী’র কবিতা আমাকে ভাবতে শেখায় – নীরা কাদরী

[ প্রকাশিত হল কবি পত্নী নীরা কাদরীর সাথে শিল্প-সাহিত্যের পত্রিকা অযান্ত্রিকের একটিআলাপচারিতা। এই আলাপচারিতায় উঠে এসেছে নীরা কাদরীর চোখে কবি শহীদ কাদরী ও তাঁর কবিতা, জীবন সঙ্গী শহীদ কাদরী এবং অন্যান্য নানান প্রসংগ। স্বাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আদনান সৈয়দ]

শহীদ কাদরী’র কবিতা আমাকে ভাবতে শেখায় – নীরা কাদরী
শহীদ কাদরী’র কবিতা আমাকে ভাবতে শেখায় – নীরা কাদরী

আদনান সৈয়দঃ কবি শহীদ কাদরীকে আপনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। কবি শহীদ কাদরী এবং জীবন সঙ্গী শহীদ কাদরী তাঁর দুটো স্বত্বা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কি?

নীরা কাদরীঃ কবি শহীদ কাদরী’র কবিতার সঙ্গে আমি পরিচিত দীর্ঘকাল যাবৎ। তাঁর লেখার গভীরতা শুধু যে ভালোলাগার বিষয়, তা নয়। তার কবিতা আমাকে ভাবতে শেখায়, জীবনের বহু দিক ভেবে দেখে নতুন করে বিচার করতে শেখায়। তার কবিতায় পাই দর্শন, বিজ্ঞান, আধুনিক মানুষের ভেতরের জটিলতা। কিন্তু জীবন সঙ্গী শহীদ কাদরী আর দশটা মানুষের মতই সাধারণ জীবন যাপন করতে ভালোবাসে। শহীদকে কখনই মনে হয় না সে একজন আলাদা কোন মানুষ। সংসারে একজন স্বামী হিশেবে যা যা করা সম্ভব সে তা সবটুকুই করে। অত্যান্ত শান্তিপ্রিয় মানুষ শহীদ কাদরী। সংসারে অনুযোগ, অভিযোগ দুটোই আছে কিন্তু এটা এমন কিছু ধরার মত নয়।

আদনান সৈয়দঃ কবি শহীদ কাদরীর কোন কবিতাটি আপনার সবচেয়ে বেশি প্রিয়? কবির স্ত্রী হিশেবে নয় একজন পাঠক হিশেবে তার কবিতার মূল্যায়ন আপনি কীভাবে করবেন?

নীরা কাদরীঃ সত্যি কথা বলতে কবি শহীদ কাদরীর প্রতিটা কবিতাতেই নিজস্ব স্বাতন্ত্রতা বিদ্যমান। আর আমার কাছে তার সব কবিতাই প্রিয় এবং উল্লেখযোগ্য।

আদনান সৈয়দঃ আমরা জানি কবি শহীদ কাদরী একজন ভীষণ আড্ডাবাজ মানুষ। তার সাথে দিন রাত তাঁর পাঠক এবং বন্ধুদের আড্ডা হয়। আপনি কবির আড্ডা কতটুকু ভালোবাসেন?

kadri
kadri

নীরা কাদরীঃ শহীদ মূলত সাহিত্য নিয়ে, সাহিত্যের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় যেমন দর্শন, বিজ্ঞান, সঙ্গীত, চিত্রকলা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে, ভাবনার আদান-প্রদান করতে ভালোবাসে। এই সাহিত্য আড্ডায় যারা অংশ গ্রহন করেন তারা যেমন উপকৃত হন সেখান থেকে এক ধরনের ভালোলাগা তৈরি হয়। সেই ভালোলাগা থেকেই একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আমি তাঁর আড্ডায় সবসময় থাকতে না পারলেও চেষ্টা করি বেশির ভাগ সময় এই মূল্যবান সান্নিধ্যটুকু থেকে বঞ্চিত না হতে। আমি তাদের আলোচনাও মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতা হয়ে উপভোগ করি। এই আলোচনা থেকে উঠে আসে নানা ধরনের বইয়ের খবর, প্রবন্ধ চলচ্চিত্র, উপন্যাস, গল্প, আত্মজীবনী যা শুধু সময় উপযোগী নয় তার চিরন্তনও বটে।

আদনান সৈয়দঃ লেখালেখিতে আসছেন কি? কোন স্মৃতিকথা বা জার্নাল?

নীরা কাদরীঃ অবশ্যই লেখালেখিতে আশার ইচ্ছা রাখি। শহীদের সঙ্গে প্রচুর অভিজ্ঞতা, জীবনকে অন্যভাবে দেখতে শেখা এবং আরো নানা রকমের বিচিত্র সব দৃষ্টিভঙ্গী যা কিনা এতো দিনকার চেনা পৃথিবীকে অনেকটাই জটিল করে দেখার চোখ তৈরি করে দিয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আগামীতে স্মৃতিকথা লেখার ইচ্ছে আছে।

আদনান সৈয়দঃ আমরা জানি আপনি এবং শহীদ কাদরী ’একটি কবিতা সন্ধ্যা’ নামের অসাধারণ মান সম্মত একটি অনুষ্ঠান করে আসছেন। এই নিয়ে আপনার কাছ থেকে আরো কথা শুনতে চাই।

নীরা কাদরীঃ ‘ একটি কবিতা সন্ধ্যা’ প্রধানত বাংলাদেশের এবং বাংলা ভাষার কবিতাকে বিদেশের মাটিতে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কবিদের লেখা পাঠ করার সুযোগ ও তৈরি করে দিচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে ‘একটি কবিতা সন্ধ্যা’ শুরু হওয়ার আগে বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানে যখনই কোথাও কোন অনুষ্ঠান হতো সেখানে গদবাঁধা একই কবিতা বার বার পড়া হতো। সেখানে বাংলাদেশের কবিতার কোন স্থান ছিল না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কবিতা দিয়েই যে দেড়/দুঘন্টা একটি পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান করা সম্ভব ‘ একটি কবিতা সন্ধঅ’ তার জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত। এর ১ম পর্ব সাজানো হয় আলাপচারিতা/ কথপোকথন দিয়ে সেখানে কবি শহীদ কাদরীর সাহিত্যের উপর মূল্যবান সব বক্তৃতা থাকে যা সবসময় শ্রোতা দর্শকরা উপভোগ করে থাকেন। এবং এর পরপরই কবিতা পাঠের পর্ব যার প্রতিটা কবিতা কবি শহীদ কাদরী এককভাবে বাছাই করে থাকেন। এমন কি প্রতিবারের অনুষ্ঠানের শেষের দিকে কবিতাগুলোর একটি ’ফটোকপি’ দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে বিলি করা হয়। ইমেলের মাধ্যমে বাচিক শিল্পী বা আবৃত্তিকারদের কাছে তাদের কপি আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের উদ্দেশ্য প্রিয় দেশকে ভালোবাসে সে দেশটির শিল্প-সাহিত্যকে বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে দেওয়া, তার প্রসার লাভ করা এবং জনপ্রিয় করা।এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ‘একটি কবিতা সন্ধ্যা’ কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কাজ অব্যহত থাকবে।

kadri
kadri

আদনান সৈয়দঃ এবার অন্যপ্রসংগ। আপনার ব্যাক্তিগত জীবন, আপনার বিশ্বাস এবং জীবন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

নীরা কাদরীঃ আমাদের প্রত্যেকেরই দুটো চেহারা। একটি সামাজিক বা বাইরের চেহারা অন্যটি ব্যক্তিগত বা লুকায়িত চেহারা। পৃথিবীর বেশিরভাগ সমাজ নীতি বা সামাজিক দশন এর জন্ম হয়েছে মানুষের সামাজিক চেহারা উপর ভিত্তি করে। সেখানে প্রত্যেকেই তার ভালো রূপটি প্রকাশ করে। কিন্তু ব্যাক্তিগত চেহারা যা কখনই দেখা যায় না, হঠাৎ হঠাৎ তা বেড়িয়ে এসে সমাজে অঘটন ঘটায়, অরাজকতার সৃষ্টি করে, অশান্তি ঘটায়। এরই মাঝে আমাদের বসবাস। কিন্তু তারপরও কবির ভাষায় বলবো, ‘ সবার উপরে মানুষ সত্য/ তাহার উপরে নাই’। মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। কথায় আছে ‘We must love one another or die’.

আদনান সৈয়দঃ আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? শিল্প-সাহিত্যে নিয়ে কোন কাজ অথবা সাংগঠিনক নিয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কি?

নীরা কাদরীঃ শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষন করছি। এখানে সাহিত্য অঙ্গনে যে ধরনের সাহায্য করা সম্ভব তা সঙ্গে থেকে করার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া নিজস্ব পরিকল্পনা বলতে শহীদ কাদরীর চিন্তা ভাবনা, তাঁর সাহিত্যের মূল্যায়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে তা ‘you-tube’ এ দেওয়ার কাজ চলছে। খুব শিঘ্রই তা প্রকাশিত হবে।

আদনান সৈয়দঃ অযান্ত্রিক এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ

নীরা কাদরীঃ অযান্ত্রিককেও ধন্যবাদ। এই পত্রিকার জন্যে রইলো শুভকামনা।

LEAVE A REPLY