নারিকেলের আচা দিয়ে তৈরি গহনা ও বিাভন্ন পণ্য রফতানি হয় বিদেশে

0
62
নারিকেলের আচা দিয়ে তৈরি গহনা ও বিাভন্ন পণ্য রফতানি হয় বিদেশে
নারিকেলের আচা দিয়ে তৈরি গহনা ও বিাভন্ন পণ্য রফতানি হয় বিদেশে

বাগেরহাটে নারিকেলের আচা (মালা) দিয়ে তৈরি গহনাসহ বিভিন্ন পণ্য এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপে রফতানি হচ্ছে। হাতে তৈরি এসব পণ্য বিশ্ববাজার জয়ের পাশাপাশি কর্মস্থান হচ্ছে অনেক নারীর শ্রমিকের। নারিকেলের আচা দিয়ে তৈরি এসব রফতানি পণ্য থেকে দেশ আয় করছে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা। এই নারী উদ্যোক্তারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভুমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাগেরহাটের বিসিক শিল্প নগরীতে ২০১১ সালে নুরজাহান এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড স্থাপিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী উৎপাদনের পাশাপাশি ‘কোকো সেল বাটন ইউনিট’ নামে একটি নারিকেলের আচা দিয়ে বোতাম তৈরির কাজ শুরু করে। দেশ-বিদেশে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বোতামের পাশাপাশি নারিকেলের আচা দিয়ে বিভিন্ন জুয়েলারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন শুরু হয় এখানে। এরমধ্যে চুড়ি, কানের দুল, হার, কোমরের বিছা, হ্যান্ডব্যাগ, পার্টসব্যাগ, বোতাম, ওয়াল-ম্যাট উল্লেখযোগ্য। এই কারখানায় ২০/২৫ জন নারী শ্রমিক নিজ হাতে তৈরি করছেন এসব পণ্য। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক ৩ হাজার বোতাম তৈরি করতে পারেন। এজন্য তারা ২ থেকে আড়াই’শ টাকা পারিশ্রমিক পান। কোকো সেল বাটন ইউনিটে স্থানীয় অসহায় দরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে পণ্য তৈরি করায় যেমন সৃষ্টি হয়েছে কর্মস্থান, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভুমিকা রাখছে। নারী উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দেশের গন্ডি পেরিয়ে নারিকেলের আচা দিয়ে তৈরি পণ্য এখন রফতানি হচ্ছে আমেরিকা, লন্ডন ও কোরিয়ায়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিকে যেমন দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে আয় হবে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা। এদিকে এই পণ্য তৈরি করে অনেক খুশি নারী শ্রমিকরা।

বাগেরহাট কোকো সেল বাটন ইউনিট ইনচার্জ আনোয়ারা মনজু বলেন, নারিকেলের আচা’র একটা বিরাট সম্ভবনা দিক আছে। এই আচা দিয়ে বিভিন্ন নারীদের নিয়ে নানা প্রকার গহনা তৈরি করছি। এগুলো বিদেশে রফতানি করে অর্জন করা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। যা দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখছে। বাগেরহাট শিল্পনগরী কর্মকর্তা কৃষ্ণ পদ মল্লিক বলেন, নারিকেলের আচা এক সময় মানুষ ফেলে দিতো। এখন এটা মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY