৬৫ বছর বয়সী সেই বাছিরনই সেরা পিএসসির ফলাফলে, খুশিতে আত্মহারা

0
72
basiron
basiron

ধবধবে সাদা শাড়ি ও ওড়না পরে ৬৫ বছরের বাছিরন তার সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল জানতে এসেছিলেন বিদ্যালয়ে। ফলাফলে দেখা গেল বিদ্যালয়ের সেরা তিনিই।
হোগলবাড়ীয়া পুর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বাছিরন নেছা জিপিএ-৩ পেয়ে বিদ্যালয় সেরা হন। তার এই কৃতিত্বে সবাই মুগ্ধ। তাকে ঘিরে এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাপক উদ্দীপনা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার আগেই বাছিরন ফলাফল নিতে বিদ্যালয়ে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাছিরন কী ফলাফল অর্জন করেন তা জানার কৌতুহলী মানুষ স্কুলের বারান্দায় ভিড় জমান। বাছিরনের চোখেমুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছটা। শেষ পর্যন্ত আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সহপাঠী সবাইকে পেছনে ফেলে বিদ্যালয় সেরা ফল তার নামেই। এই খুশিতে যেন আত্মহারা বৃদ্ধা বাছিরনা নেছা।

বিদ্যালয়ে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিক্রিয়ায় বাছিরন নেছা বলেন, ‘পাস করার মধ্যে যে এত মজা তা আগে বুঝিনি।’

এ ফলাফলে তিনি শিক্ষক, সহপাঠি ও পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন বাছিরন।

বাসিরন নেছা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দীন ও সহকারী শিক্ষিকা আনারকলি বলেন, ‘আমরা গর্বিত শিক্ষক। কারণ, বাসিরন নেছার মত একজন শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি।

ফলাফল ঘোষণার সময় ওই বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা আখতার বানু। তিনি বলেন, ইচ্ছে শক্তির কাছে বয়স যে কোনো বাধা নয় তা আবারো প্রমাণ করলেন বাছিরন। তার এলাকার একজন বয়োবৃদ্ধ লেখাপড়া ও ভাল ফলাফল করায় তিনিও গর্বিত। বাছিরন দেশের মধ্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলেও মনে করেন সেলিনা আখতার বানু। এমপি আগামী ছয়মাসের মধ্যে বাছিরণের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পাকাকরণের সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন।

এদিকে বাছিরনকে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাড়িতে ছুটে যান গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান ও মটমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহম্মেদ। পিএসসি পরীক্ষা পরিদর্শন করে বাছিরনের লেখাপাড়ার সমস্ত ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

উল্লেখ্য, গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া এলাকার মৃত রহিল উদ্দীনের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী বাসিরন নেছা হোলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এ বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY