২০১৫ সালে বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

0
75
২০১৫ সালে বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র
২০১৫ সালে বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

২০১৫ সালে বিশ্বে অস্ত্র বিক্রিতে শীর্ষ দেশ হিসেবে নিজের স্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সারা বিশ্বের অস্ত্রবাজারে বিক্রিত মোট অস্ত্রের অর্ধেকই জোগান দিয়েছে দেশটি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স। অন্যদিকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। একটি নতুন কংগ্রেশনাল জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নির্দলীয় কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস ‘কনভেনশনাল আর্মস ট্রান্সফারস টু ডেভেলপিং নেশনস, ২০০৮-২০১৫’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র। এর আগে ২০১৪ সালে অস্ত্র বিক্রি হয়েছিল ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের। বছরওয়ারি অস্ত্রের বাজার কমেছে ৯০০ কোটি ডলারের। গত বছর উন্নয়নশীল দেশগুলো ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় করেছে, যা আগের বছরের ৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে কম।
তবে অস্ত্র বিক্রেতা হিসেবে দুই বছর ধরে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালে ৪ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করে দেশটি। ২০১৪ সালের তুলনায় দেশটির অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৪০০ কোটি ডলার।
অস্ত্র বিক্রেতার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই রয়েছে ফ্রান্স। গত বছর দেশটি অস্ত্র বিক্রি করেছে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। ২০১৪ সালের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ৯০০ কোটি ডলার। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, চীন, সুইডেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল।
শীর্ষ দুই দেশের অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও কমেছে রাশিয়ার। ২০১৪ সালে রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। গত বছর বিক্রি করেছে ১ হাজার ১১০ কোটি ডলারের। রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা। অন্যদিকে ২০১৫ সালে ৬০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে চীন। ২০১৪ সালে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলারের বেশি।
২০১৫ সালে অস্ত্র ক্রেতাদের মধ্যে শীর্ষে ছিল কাতার, মিসর, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক। গত বছর কাতার অস্ত্র কিনেছে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের। এর পরে মিসর ও সৌদি সরকার অস্ত্র ক্রয়ে ব্যয় করেছে যথাক্রমে ১ হাজার ২০০ কোটি ও ৮০০ কোটি ডলার।
দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে ২০১৫ সালে অস্ত্র বিক্রি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক দেশই অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে সামরিক বাজেট ছোট করতে বাধ্য হয়েছে। অনেক দেশ বিদ্যমান অস্ত্রের আধুনিকায়নে মনোযোগ দিয়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারেও। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

LEAVE A REPLY