থার্টিফার্স্ট নাইট ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা সন্ধ্যার পর বাইরে অনুষ্ঠান করা যাবে না

0
53
asaduzzaman
asaduzzaman

থার্টি ফার্স্ব নাইট ও ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরকে ঘিরে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মহানগরীতে কোনো উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে ফিরতে হবে নগরবাসীকে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, থার্টি ফার্স্ট নাইটে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দশ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। থানা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে থাকবে ডিবি, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর সাধারণ মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। তবে পরিচয়পত্র দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করতে পারবেন। গুলশান ও বনানী এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় পাঁচতারা হোটেলগুলো বিদেশিদের জন্য খোলা থাকবে। হাতিরঝিল, গুলশান ও বনানীতে যাওয়ার সব রাস্তা রাত ৮টায় বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে এসব এলাকার স্টিকারযুক্ত গাড়ি বিশেষ কারণে ব্যাখ্যা দিয়ে ঢুকতে পারবে। সন্ধ্যা ৬টার পর গুলশান এলাকায় প্রবেশের জন্য কাকলি ও আমতলী ছাড়া কোনো পয়েন্ট খোলা থাকবে না। শাহবাগ ও নীলক্ষেত পয়েন্ট দিয়ে ডাইভারশনের ব্যবস্থা থাকবে।

পথচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানিয়ে ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কারো চলাফেরায় সন্দেহ হলে পুলিশ তল্লাশি করতে পারে। সে জন্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। অ্যাম্বুল্যান্সসহ বিশেষ সেবার যানবাহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হবে। নগরবাসীকে যথাসম্ভব রাত ৮টার মধ্যে নিজ নিজ আবাসিক এলাকায় চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দিন লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ মানুষ বহন করতে পারবে না। আতশবাজি ও পটকা ফোটানো যাবে না। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত সব ধরনের বার, ক্লাব ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। ওই সময়কালে রেস্তোরাঁয় কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলে পুলিশের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট থাকবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার পর টিএসসি ও গুলশান এলাকার রেস্টুরেন্ট, হোটেলসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চেকপোস্ট ও ব্লকরেইড চলমান।

৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তার ওপর বা প্রকাশ্যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাড়িতে বা ছাদে পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষে থার্টি ফার্স্ট উদ্‌যাপন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে।

থার্টি ফার্স্ব নাইট ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি রয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারীরা কৌশলী। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারি রাখবে। রাজধানীর কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে নগরবাসীকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান, রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার, ট্রাফিক উত্তর ও দক্ষিণের ডিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY