শুরু হয়েছে ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭। রাত ১২টা ০১ মিনিটের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি হয়ে গেল ২০১৬ সাল। নতুনকে স্বাগত জানাতে মানুষের উদ্দীপনা সবসময়। নতুনের মধ্যে নিহিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয় নিকট অতীত অথবা সুদূর অতীত থেকে নেয়া শিক্ষা থেকে। তাই নতুন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ন করার সুযোগ করে দিতে এলো নতুন বছর।

নতুনকে আবাহনের তাগিদে শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বিশ্ববাসী স্বাগত জানিয়েছে নববর্ষকে। ২০১৭ সালকে বরণ করে নিতে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই নানা আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী, অভিজাত এলাকার রাস্তা। মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি। কোথাও কোথাও কয়েক স্তরের এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বর্ষবরণ উদযাপনে বিধি-নিষেধের কারণে উৎসবে কিছুটা ভাটাও পড়েছে। খোলামেলা অনুষ্ঠানে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে সবাইকে ইনডোর আয়োজন করতে হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহু ঘটনার সাক্ষী হয়ে মহাকালের অতল গর্ভে শনিবার সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে বিগত বছর ২০১৬। আবহমান সূর্য একটি পুরনো বছরকে কালস্রোতের উর্মিমালায় বিলীন করে আবার শুরু করল যাত্রা। স্বপ্ন আর দিনবদলের অপরিমেয় প্রত্যাশার রক্তিম আলোয় উদ্ভাসিত ইংরেজি নতুন বছর শুরু হলো। লাখো প্রত্যাশার ঝাঁপি খুলে এবং সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশায় আজ ভোরে কুয়াশায় ঢাকা পূর্বাকাশে উদয় হবে নতুন বছরের লাল সূর্য।

খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রথম দিন আজ। প্রাচীন সূর্য শনিবার যে দিবসকে কালস্রোতে বিলীন করে পশ্চিমে অস্ত গেল, তা আজ ফেলে আসা দিন। থার্টিফার্স্টে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরমানন্দে ২০১৭ সালকে বরণ করছে। আজ নতুন দিনের নতুন সূর্যালোকে স্নান করে সিক্ত হবে জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিগত বছরের সব কালিমা ধুয়ে-মুছে নতুন কেতন ওড়াতে ওড়াতে এগিয়ে যাবে সময়, সভ্যতা, হিংসা-বিদ্বেষ-হানাহানিমুক্ত রাজনীতি, অর্থনীতি আর সংস্কৃতি। অনাবিল স্বপ্ন আর অফুরন্ত প্রাণোন্মাদনা নিয়ে নতুন সূর্যের আলোয় অগ্রসর হবে মানুষ।

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নববর্ষের প্রথম দিনটি উদযাপিত হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ তথা সমগ্র বিশ্বের সুখ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করা হবে এই দিনটিতে। এই বিশেষ দিনটিকে উপলক্ষ করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষুদে বার্তা ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন করপোরেট, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনও প্রতি বছর নিকটজনদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করে থাকে।

এই দিনটিতে বিদায়ী বছরের সাফল্য ও ব্যর্থতা ফিরে দেখা হয় এবং নতুন বছরে কিভাবে লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সেজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বছরের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্যও কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়।

২০১৬ সাল বাংলাদেশের জন্য ছিল একটি লক্ষ্যণীয় সাফল্যের বছর। রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি ও পর্যটন ও মধ্যম আয়ের দেশে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য।

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে ২০১৬ সাল। আগের বছরগুলোর মতো এ বছরটিতে হরতাল ও অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ছিল না। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় ছিল সারাটি বছর জুড়ে। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে গেছে এবং ক্ষুদ্র অর্থনীতি নির্দেশকে নতুন অনেক রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী বছরে রেকর্ড পরিমাণ জিডিপি ৭ দশমিক ১১ ও মাথাপিছু গড় আয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ১ হাজার ৪৬৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৮, যা ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ব্যাংকের রিজার্ভও ৩২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল, যা একটি রেকর্ড।

২০১৬ সালে কৃষি ক্ষেত্রেও ব্যাপক সাফল্য দেখা গেছে। এ সময় কৃষকরা খাদ্যশস্যে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদাই মেটায়নি, বিদেশেও তা রপ্তানি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বে সবজি উৎপাদনে তৃতীয় ও মাছ উৎপাদনে ৪র্থ স্থান অধিকার করেছে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন ও মূল্য গ্রহণযোগ্য হওয়ায় কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই খুশি ছিলেন বিদায়ী বছরটিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, ২০১৬ সালে প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলোই ছিল শক্তিশালী। ২০১৭ সালে যা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত কয়েক বছরের মতো বিদায়ী বছরেও তথ্য প্রযুক্তি খাত বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। এতে জনগণের সেবার পরিধি আরও বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের জন্য দেশ সম্মানজনক আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে।

নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ১ জানুয়ারির বরণ লগ্ন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত আছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, যেকোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা মহানগরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য পোশাক ও সাদা পোশাকে তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

LEAVE A REPLY