চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই

0
60
চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই
চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই

চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই
চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই

সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে নিশ্চিত মনে বাসায় ফিরেছিলেন রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। হঠাৎই গভীর রাতে মার্কেটে আগুন লাগার খবরে ঘুম ভাঙে তাদের। খবর পেয়ে ওই রাতেই অনেক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টায় হয়তো বুকে আশার সঞ্চয়ও হয়েছিলো। কিন্তু সময় গড়াতেই সেই আশা বিশাদে রূপ নিতে থাকে। এভাবে চোখের সামনেই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। মুহুর্তেই নিঃস্ব হয়ে যান ওই মার্কেটের অন্তত ৫ শতাধিক ব্যবসায়ী। চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখেন তাদের স্বপ্ন।

এদিকে ব্যবসায়ীদের নাশকতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। একই কথা জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, মার্কেটের ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।

চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই
চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই

জানা গেছে, গুলশানের এক নম্বর এলাকার ডিএনসিসি মার্কেটের অন্তত সাড়ে ৭ শতাধিক দোকান রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে মার্কেটের পূর্ব পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরমধ্যে মার্কেটের সামনে জড়ো হতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তারা এসময় ফায়ার সার্ভিসের গাফলতির অভিযোগ এনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অবরোধ করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর পুরোপুরি আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। যদিও সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই মার্কেটের বিভিন্ন অংশ থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা দেছে। ধারণা করা হচ্ছে আগুনে মার্কেটের অন্তত ৫ শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে কয়েকশ কোটি টাকা।

চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই
চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই

ওই মার্কেটের দোতলার অল স্মার্ট নামে প্রসাধনী দোকানের মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরেছিলেন। এরমধ্যে মার্কেটে আগুন লাগার খবর পান। প্রথমে মনে হয়েছিলো হয়তো ছোট আগুন। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে বড় ধরনের আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রথম অবস্থায় অল্প কয়েকজন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। তারা এ সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। এরপর আরো গাড়ি আসার পর একযোগে কাজ শুরু করা হয়। এরমধ্যে আগুনের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। প্রথম অবস্থাতেই বেশি সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগুনের তীব্রতা এত বেড়ে যেতো না। তিনি বলেন, দোকানে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। কিন্তু একটি টাকার মালও তিনি বের করতে পারেননি। সব মিলায়ে তিনি পথে বসে গেছেন। ভিক্ষা করে চলা ছাড়া এখন আর কোন উপায় নেই। পাশাপাশি দেনাও রয়েছেন অনেক। সব হারিয়ে দিশেহারা শরিফুল এখন শুধুই চোখের পানি ফেলছেন।

রুনা আহম্মেদ নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, দোকানে আনুমানিক এক কোটি টাকার মালামাল ছিলো। এরমধ্যে ৪০ লাখ টাকার উপরে দেনা রয়েছেন। আগুনে তার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন দেনাদারদের সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সংসার চালানোর উপায় নেই। রুনার চোখের সামনে এখন শুধুই মরুভুমি।

তিনি বলেন, গুলশান-বানানী এলাকায় একটি ফায়ার স্টেশন নেই। এটা কোন ধরনের কথা। আশপাশে ফায়ার স্টেশন থাকলে হয়তো অনেক সম্পদ আগুন থেকে রক্ষা পেত।

চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই
চোখের সামনেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই

ফায়ার সার্ভিসের ডাইরেক্টর অপারেশন মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান, খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সদর দপ্তরসহ ঢাকার আশপাশের আরো ২০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগেই ইউনিটের সঙ্গে যোগ দেয়। সব মিলিয়ে ২২টি ইউনিট রাত থেকেই আপ্রাণ চেষ্টায় দুপুরের দিকে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, রাত হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগেনি। কিন্তু ওই মার্কেটে পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। পাশের লেক ও ড্রেন থেকেও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরও ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিসকে দোষারোপ করছেন। এখানে আমাদের চেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলাযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

শাকিল নেওয়াজ বলেন, সতর্কতার অংশ হিসাবে ডিএনসিসি মার্কেটের পাশেই সিটি কর্পোরেশনের ৬তলা মার্কেটের দোকানের মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছিলো, আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপ-পরিচালক দেবাশিষ বর্ধনকে। এছাড়া বাকী সদস্যরা হচ্ছেন, ঢাকা রেঞ্জের সহকারী পরিচালক (এডি) মাসুদুর রহমান, তেজগাঁও স্টেশনের যুগ্ম-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন, পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ও ছানহারুল। আগামি কাল (৪ জানুয়ারি) থেকেই কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করবে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান পরিবর্তন ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

LEAVE A REPLY