চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে ধীরগতিতে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৭ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের শুরুতে বাজেট বাস্তবায়নের হার কম থাকলেও সময় গড়াবার সঙ্গে সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়তে থাকে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মোট বাজেটের আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকারের ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটের ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা ২৯ শতাংশ বেশি।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ শতাংশ। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৭ হাজার ১১ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চলতি বছর এডিপির আকার ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার বাজেটের আকার বেড়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় বাস্তবায়নের হার কমেছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দুর্বলতা কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে একটি কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যেই অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, বাজেটে
বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ব্যয় করতে পারে না। ফলে জাতীয় উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয় ধীরগতিতে। তাই ব্যয় সক্ষমতা বাড়ানো খুবই জরুরি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নজরে এনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে প্রতি তিন মাসে বাজেট বাস্তবায়নের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে। সমপ্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এসব কথা বলা হয়।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সকালের খবরকে জানান, অর্থবছরের শুরুতে বাজেট বাস্তবায়নের হার একটু কম থাকে। তবে সময় গড়াবার সঙ্গে সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়তে থাকে।
সূত্র জানায়, সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ফিসক্যাল ইকোনমিক্স অ্যান্ড ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট (ফিম)’ কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণটি এর আগে বৈদেশিক সহায়তায় করা হলেও এবারই প্রথম তা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি কোর্সে মোট ২৫ প্রশিক্ষণার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। কোর্সটিতে সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক কাঠামো সংস্কার, বাজেট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY