ক দিন আগেই কাঞ্চনজংঘা স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) আরও একটি মাইলফলকের সামনে। শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চ। প্রথমবারের মতো ফাইনালে। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। যাদের অতীত বেশ সমৃদ্ধ। আগের তিন আসরের সেরা হয়েই আরও একটি ট্রফির সামনে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হবে এই দু’দল।

দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ের আগে স্বাভাবিকভাবে স্বাগতিকরা বেশ এগিয়ে। র্যাঙ্কিংয়ে তো বটেই। ধারে-ভারে কোনো অংশে কম নয়। এক কমলা দেবীর মতো খেলোয়াড় হুমকি হতে পারেন। যদিও এমন ব্যালান্সড দল হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে ভারত। তবে আগের ছয়বারের মুখোমুখিতে সবক’টি ম্যাচেই সাজিদ ইউসুফের দল জিতেছে। এমন হিসাব-নিকাশের সামনে দেখেশুনে এগোতে চায় গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।

সেমিফাইনালে মালদ্বীপকে হাফ ডজন গোল দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকার সময় কই। এক দিন বিরতি দিয়ে ট্রফির লড়াই। হ্যাটট্রিক করা সিরাত জাহান স্বপ্না এবং আরেক স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন সতীর্থরা মুখিয়ে আছেন পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা রাখতে। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তো বললেন, ‘গ্রুপে ভারতের সঙ্গে ড্র করে উত্সব করেছি। মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা আমাদের কাজটা ভালোভাবে করতে পেরেছি। এখন ফাইনাল সামনে। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করব শিরোপা জয়ের।’

প্রতিপক্ষকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সাবিনার কণ্ঠে সমীহর সুর, ‘আমরা একটার পর একটা ম্যাচ খেলছি এবং চেষ্টা করছি নিজেদের শতভাগ দেওয়ার। ফাইনালেও কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। আমি কোনো চাপ অনুভব করছি না। বরং ভালো করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমার সতীর্থরা অনেক কষ্ট করেছে, কোচ-টিমের স্টাফরা অনেক শ্রম দিয়েছেন, এখন আমরা শিরোপা জয়ের চেষ্টা করব।’
ভারত ম্যাচে একের পর এক গোল রুখে দিয়ে গোলকিপার সাবিনা আক্তার আলোচনায় চলে এসেছেন। ফাইনাল নিয়ে তার কথা, ‘গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে যে সেভগুলো করেছি, ওটা নিয়ে এখন আর ভাবছি না। এটা ফাইনাল, নতুন ম্যাচ। আগেরটা ভুলে নতুন করে শুরু করব আমি। আসলে দল ভালো করছে। তাতে আমিও আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছি এবং চেষ্টা করছি ভালো করার।’ তারপর বললেন, ‘এটা ফাইনাল। আমি আরও ভালোভাবে নিজেকে মেলে ধরব। কেননা দেশের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরাও চাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে। রানার্সআপ হলেও আমরা একটা ট্রফি পাব কিন্তু আমরা বড় ট্রফিটা নিয়েই দেশে ফিরতে চাই।’

শিষ্যদের মতোই কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের লক্ষ্য অবশ্যই শিরোপা। তার কথা, ‘একাধিকবার বলেছি, ভারত শক্তিশালী দল। এখনও একই কথা বলছি। তবে ফাইনালে যেহেতু উঠেছি সেহেতু বড় স্বপ্নই দেখছি আমরা। সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এসেছিলাম। সেটা পূরণ করে ফাইনালে উঠেছি। তবে ফাইনাল নিয়ে কোনো চাপ নিচ্ছি না। আমার আশা মেয়েরা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। দেখা যাক তারপর কী হয়।’

LEAVE A REPLY