দান নয়। সামাজিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করুন। ‘সোশাল বিজনেস ফর সাসটেইনেব্যল ডেভেলপমেন্ট’-এর তিন দিনের আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ কথা বলেছেন শান্তিতে নোবেল পুররস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভারতের বিশাখাপট্টমে চলছে এ সম্মেলন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু। এতে ড. ইউনূস বলেছেন, গরিবদের দেয়া টুকরো টুকরো সাহায্য কোনো কাজে আসে না। এটা টেকসই কোনো মডেল নয়। যা কিছু তাদেরকে দেয়া বে তার একটি মূল্য থাকা উচিত। এটার সর্বনি¤œ একটি সুবিধা থাকতে হবে গরিবদের কাছে। সেমিনারের আয়োজক অন্ধ্র ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশের ইউনূস সেটার। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয। এতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন ড. ইউনূস। তিনি বলেছেন, দাতব্য বা চ্যারিটি হলো একটি ভুল ধারণা। এটা ওয়ান-টাইম বা এক সময়ের সহায়তা দেয়। কিন্তু যদি একটি ব্যবসায় কৌশল এক্ষেত্রে যুক্ত করা যায় তাহলেই এটা হয়ে উঠবে সামাজিক বাণিজ্য। তাতে আতœনির্ভরশীলতা টেকসই রূপ পাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য। তবে এ ব্যবসায়ের ধরণ হতে হবে অলাভজনক। এক্ষেত্রে উদাহরণ টেনে ড. ইউনূস বলেন, প্রায় তিন দশক আগে যখন গ্রামীণ ব্যাংক বিকাশ লাভ করছিল তখন আমাদেরকে ব্যতিক্রমী সমস্যার ভিতর দিয়ে এসেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি গ্রামের অনেক মানুষের ছেলেমেয়ে রাতকানা রোগে ভুগছে। চিকিৎসকরা বলছেন এসব শিশুকে চিকিৎসা করানো না হলে সে বা তারা স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাবে। ড. ইউনূস বলেন, যখন আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলাম তখন চিকিৎসকরা বললেন, ভিটামিন এ’এর অভাবে এ রোগ হয়েছে। ওষুধ বা শাকসবজি খাওয়ানোর মাধ্যমে এর প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের প্রস্তাব এলো। তবে আমরা একটি নতুন আইডিয়া তৈরি করলাম। গ্রামবাসীকে ওইসব বীজ কিনতে আমরা উদ্বুদ্ধ করলাম যা থেকে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন এ সমৃদ্ধ শাকসবজি উৎপাদন হবে। এ জন্য প্রতি প্যাকেট বীজের দাম নেয়া হলো এক টাকা। এখন প্রতিটি বাড়ির পিছন দিকের খালি জায়গায় শুধু শাকসবজি উৎপাদন করা হয় তা-ই নয়, একই সঙ্গে তা তারা বিক্রি করে। এভাবে ৩০ বছর পরে বাংলাদেশ শেকে রাতকানা রোগ নির্মূল করে দেয়া হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে এটা একটি সফল সামাজিক বাণিজ্যের মডেল হয়ে উঠেছে। খোলা স্থানে মল ত্যাগ করা বন্ধে একই রকম উদ্যোগ আমরা উদ্ভাবন করেছি। এখন উন্মুক্ত স্থানে মল ত্যাগের ঘটনা আমার দেশে নেই-ই। আমাদের আরেকটি সফল সামাজিক মডেল হলো সৌরশক্তির ব্যবহার। যেসব যুবক বা যুবতী চাকরি নিচ্ছেন তাদের সমালোচনা করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, কর্মচারী হওয়ার চেয়ে আমি চাকরিদাতা হওয়ার ধারণাকেই সমর্থন দিই। অনেক সুযোগ সুবিধা আছে। তা শুধু একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের রয়েছে একটি সোশাল বিজনেস ফান্ড। এর আগে অন্ধ্র ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর জি. নাগেস্বরা রাও ঘোষণা করেন যে, ইউনূস সেনটারের ধারণায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি উদ্যোগ শুরু করা হবে। এতে সামাজিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। উল্লেখ্য, ওই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার পি. রবীন্দ্র, অন্ধ্র ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যক্ষ পি.এস আবধানী, রেজিস্ট্রার উমামাহেশ্বরা রাও, অরবিন্দ ফার্মার পরিচালক বিজয় কুমার।

LEAVE A REPLY