ছোটবেলায় বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন পরিচালিত ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন মহানায়ক আলমগীরের সুযোগ্য উত্তরসূরী আঁখি আলমগীর। আঁখি তখন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী এবং নায়ক হিসেবে আলমগীর তখন ১৬টি বছর পার করেছেন। কিন্তু বাবার আগেই আঁখি অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে রাত ৮টার খবরে যখন আলমগীর আঁখির জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের খবরটি শুনেন তখন আঁখিকে কাছে ডেকে খুব আদর করেন এবং আঁখি তার বাবাকে সেবারই জীবনে সবচেয়ে বেশি খুশি হতে দেখেছেন, সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হতে দেখেছেন। কিন্তু তারপরও আঁখির আফসোস থেকে যায়। কারণ ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রে আঁখি নায়িকার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যে কারণে তার বাবার সঙ্গে একই ফ্রেমে অভিনয় করার সুযোগ হয়নি। আঁখি তার মনের সুপ্ত বাসনার কথা বলতে গিয়ে বাবার সঙ্গে একই ফ্রেমে অভিনয় করার প্রবল ইচ্ছের কথা জানালেন।

এ দিকে সম্প্রতি আঁখি আলমগীর আলাউদ্দিন আলীর সুরে শহীদুল্লাহ ফরায়েজীর কথায় একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০ বছর পর আলাউদ্দিন আলীর সুরে গান গেয়েছেন আঁখি। আসছে বৈশাখে গানটি প্রকাশ পাবে। বিশ বছর আগে আলাউদ্দিন আলীর সুরে আগুনের সঙ্গে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ চলচ্চিত্রে গান গেয়েছিলেন।

এ দিকে আগামীকাল আঁখি আলমগীরের জন্মদিন। তার জন্মদিন উদ্যাপনের মধ্য দিয়েই তার পরিবারে জন্মদিন উদযাপন শুরু হয়। বছরের শুরুতেই তার জন্মদিন থাকায় সবসময়ই আঁখির জন্মদিন বেশ আয়োজনের মধ্য দিয়েই সবসময় করা হয়ে থাকে। এবারের জন্মদিনে মিডিয়ার কিছু প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে সেলিব্রেট করার ইচ্ছে ছিল আঁখির । কিন্তু সেখান থেকেও এবার নিজে থেকে সবিনয়ে সরে দাঁড়ালেন আঁখি।

আঁখি আলমগীর বলেন, ‘ইচ্ছে ছিল এবার কিছু প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে সেলিব্রেট করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর করা হচ্ছে না। তবে এবারের জন্মদিনটি একেবারেই নিজের মতো করেই পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি আমার অবস্থান থেকে মানবতার জন্য কাজ করে যেতে পারি। কারণ আমি মনেকরি শিল্পীর একসময় মৃত্যু হয়, কিন্তু মানবতার বা মনুষত্বের কোনো মৃত্যু নেই।’

বিগত প্রায় ২০ বছর যাবৎ একই ধারাবাহিকতায় স্টেজ শো নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন আঁখি আলমগীর। আঁখি আলমগীর তার ১৯তম একক অ্যালবামের কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে কবির বকুলের লেখা এবং শওকত আলী ইমনের সুরে ‘ফাল্গুনে কৃষ্ণচূড়া’ গানের কাজ শেষ করেছেন।

LEAVE A REPLY