গুগলে আত্মহত্যার পথ খুঁজতে গিয়ে বাঁচলো তরুণী

0
92
google
google

এক ভারতীয় তরুণী আত্মহত্যা করতে গিয়ে ইন্টারনেটের কল্যাণে প্রাণে বেঁচে গেছেন। সম্প্রতি ওই তরুণী আত্মহত্যার জন্য সহজ পথ খুঁজতে ইন্টারনেটের সাহায্য নেন। কেননা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার চাইতে আত্মহত্যার আর কোনো সহজতর উপায় আছে কিনা তাই জানতে চাইছিলেন তিনি।

জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের সাহারাণপুরের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণী গিয়েছিলেন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে। অবশ্য শেষ মুহূর্তে তার মনে হয়, এর চাইতেও কোনো সহজ উপায় আছে কিনা তার খোঁজ করা যেতে পারে।

আর তাই আপাতত: আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখে দারস্ত হন গুগলের। অবশ্য জীবনপ্রদীপ নেভানোর বদলে সেখানেই পেয়ে যান নতুন আলোর দিশা। আরও সহজ করে বলতে গেলে, জনপ্রিয় ওই সার্চ ইঞ্জিন তাকে ফলাফলে দেখায়, বেশ কিছু সহায়তা কেন্দ্রের নাম ও ফোন নম্বর। যার মধ্যে একটি ছিল সাহারাণপুর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল জিতেন্দ্র কুমার শাহির। কী ভেবে তাকেই ফোন করে ফেলেন ওই যুবতী।

সেই পুলিশ অফিসার বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাকে বুঝিয়ে নিজের অফিসে নিয়ে আসেন।

তরুণীর কাছ থেকে সেই পুলিশ কর্মকর্তা জানতে পারেন, দীর্ঘদিনের অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর ধরে সম্পর্ক থাকা প্রেমিকের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মরতে চাইছিলেন তিনি।

ওই যুবতীটি তাকে জানায়, যে যুবকের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ছেলেটি সরকারি চাকরি পাওয়ায় তার পরিবার এই মেয়ের সঙ্গে বিয়েতে আপত্তি তোলে। আর তাই এই প্রেমিককে ছাড়া এই জীবন রাখতে চাইছেন না তিনি।

সব জানার পর সেই কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করেন। বলেন, প্রেমিক যেন তার জীবনে ফিরে আসে সেই চেষ্টা করবেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, তরুণীকে যাতে ওই যুবক বিয়ে করেন সেই উদ্যোগই নিয়েছে পুলিশ।

বিস্তারিত জানার পর এক নারী পুলিশ অফিসারকে ডিআইজি দায়িত্ব দেন ওই যুবতিটিকে বোঝানোর। পরে ছেলেটিকে এবং তার পরিবারকেও ডেকে বিষয়টি বোঝানো হয়, দেওয়া হয় হাল্কা হুমকিও।

আর মজার ব্যাপার হলো, গুগলে আত্মহত্যার পদ্ধতি বা সহজ উপায় সার্চ করতে গেলে সেখানে এরকম কোনো পদ্ধতি সরাসরি দেখানো হয় না। যতগুলো সার্চ রেজাল্ট পাওয়া যায়, প্রায় সবগুলোই কোনো না কোনো মানসিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং কেন্দ্রের নাম ফোন নম্বর অথবা এমন তথ্য দেয়া থাকে, যাতে জীবন শেষ করে দিতে চাওয়া কাউকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তোলা যায়।

LEAVE A REPLY