সারা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল বারাক ওবামার বিদায়ী বক্তৃতার দিকে। নানা মেজাজে পাওয়া গেল বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে। কখনো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, কখনো সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে দিচ্ছেন কড়া বার্তা, কখনো অকপটে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করছেন, আবার কখনো তিনি আবেগপ্রবণ। কখনো তৃপ্ত, আবার কখনো থেকে যাচ্ছে মৃদু আক্ষেপ। সেই বক্তৃতার কিছু নির্যাস :‌

❏‌ যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তার থেকে একটা উন্নততর আমেরিকাকে রেখে যাচ্ছি।
❏‌ যথার্থ পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ তার সঙ্গে যুক্ত হয়। সবাই কাছাকাছি এসে সেই দাবিকে আরো জোরালো করে।
❏‌ প্রতিদিন আমি আপনাদের কাছে শিখেছি। আপনারাই আমাকে আরো উন্নত প্রেসিডেন্ট ও উন্নত মানুষ বানিয়েছেন।
❏‌ আমি ও মিশেল আপনাদের অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। সেগুলো মনকে ছুঁয়ে গেছে। বিদায়বেলায় আমিও বলছি, ধন্যবাদ।
❏‌ আমি ট্রাম্পকে আগেই কথা দিয়েছি, আমার দিক থেকে সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
❏‌ নতুন একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আসছেন। আশা করব, এই রূপান্তর মসৃণ হবে।
❏‌ যে যাই বলুক, বর্ণবৈষম্যের সমস্যা আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। তবে তা আরো কমিয়ে আনতে হবে।
❏‌ প্রতিপক্ষের কথাও শুনতে হয়, বুঝতে হয়। প্রতিপক্ষেরও অনেক ইতিবাচক দিক আছে, এই বিশ্বাস রাখতে হয়।
❏‌ গত আট বছরে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন কোনো নাশকতা ঘটাতে পারেনি। তাদের সব পরিকল্পনাকে বানচাল করে দেয়া গেছে। হাজার মানুষের মধ্যেও দশ সন্ত্রাসীকে ঠিক চিহ্নিত করা গেছে।
❏‌ আইএসআইএল বড় বিপদ। কিন্তু তারাও একদিন শেষ হবে। যারা আমেরিকাকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে, তারা নিরাপদ থাকতে পারে না।
❏‌ আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলিমদের সঙ্গে কোনো বৈষম্য হয়নি।
❏‌ মিশেল, গত পঁচিশ বছর ধরে তুমি শুধু আমার স্ত্রী নও, শুধু আমার সন্তানদের জননী নও, এই পঁচিশ বছরে তুমি আমার সেরা বন্ধু। নতুন প্রজন্মের কাছে তুমি দৃষ্টান্ত। তুমি আমাকে ও আমার দেশকে গর্বিত করেছো।
❏‌ নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখুন। আপনারাই পারেন আরো ভালো এক আমেরিকা উপহার দিতে।
❏‌ জীবনের বাকি দিনগুলোতেও আপনাদের সঙ্গেই থাকব, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে।
❏‌ আমরিকার গণতন্ত্র বেশ শক্তিশালী। কিন্তু এটা বিরামহীন এক প্রক্রিয়া। এর অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে।
❏‌ বক্তৃতার মাঝে দাবি উঠল, আরো চার বছর। শান্তভাবে ওবামা জানালেন, না, আমি এটা করতে পারি না।
❏‌ শেষপর্বে এসে যেন কিছুটা আবেগতাড়িত। হাত দিয়ে চোখের পানি মুছতেও দেখা গেল বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে।

LEAVE A REPLY