জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বার্ষিকীতে মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মগুরুসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কেউ যেন ওই পথে না যায়, সেভাবে শিক্ষা দিতে হবে। আত্মঘাতীরা ভাবছে, তারা বেহেশতে যাবে, তারা বেহেশতে যাবে না। তারা দোজখে যাবে। ইসলামে আত্মঘাতীদের কোনো স্থান দেওয়া হয়নি।” প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব‌্যের সূচনা করেন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১০ জানুয়ারির গুরুত্ব তুলে ধরে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু।তিনি বলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত‌্যা করা হয়। আর এরপর বাংলাদেশে ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শুরু হয়, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ‘থেমে যায়’।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর দেশ আবার উন্নয়নের ধারায় ফিরেছে মন্তব‌্য করে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার উদ‌্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এখনো যারা গৃহহীন, আগামীতে তাদের ঘর করে দেব। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না।… আমরা যা ওয়াদা করি, তা পালন করি।” বেলা আড়াইটায় জনসভার কার্যক্রম শুরু করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভাস্থলে উপস্থিত হন বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে। তার সঙ্গে সভামঞ্চে ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

LEAVE A REPLY