২০১৭, বাকসুর সাবেক জিএস মুক্তিযোদ্ধা ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষন অর্থবহ, দূরদশী ও দিকনিদ্দেশনা মুলক এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন। ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন-প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনার ভাষন জনগনের আশা আকাংঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনার তাঁর সরকারের সাফল্য ও সফলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন এবং বাংলাদেশ সব বাধা অতিক্রম করে উন্নয়নের মহাসড়কে এবং উন্নয়নের মডেল হিসাবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে আজ বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। ধারাবাহিকভাবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ । ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ১১ ভাগ। অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ২০০৯ সালে যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তখন বিদ্যুত উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুত উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত সুবিধার আওতায় এসেছে। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ সহ যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। কূটনৈতিক সফলতার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে দীঘকালের স্থল সীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান কথা উল্লেখ করেন। তিনি তাঁর সরকারের মেয়াদে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় দেশগুলোর অন্যতম। আর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদে নারীর অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ স্থানে রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৮ বছরে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। যা আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছে। কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ আজ ঘাটতি মিটিয়ে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাধ্যমে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার অপচেষ্টা করছে। হাজার বছর ধরে এ দেশের মাটিতে সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিতে বসবাস করছে । যারা সম্প্রদায়িকতা তৈরি করে এই ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তাদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা জনগণের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন- আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। দেশে সকল পয্যায় গণতন্ত্র বজায় রয়েছে। দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ, সুন্দর, বাসযোগ্য দেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান।

LEAVE A REPLY