শুরু হলো ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্যদিয়ে এ পর্ব শুরু হয়। আমবয়ানে অংশ নেন ভারতের মাওলানা মো.  ওবায়দুল্লাহ খোরশেদ। বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মো. জাকির হোসেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় এ বয়ান তরজমা করা হচ্ছে।

মূল বয়ান উর্দুতে হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাংলা, ইংরেরি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। প্রথম পর্বের ইজতেমার ময়দানকে ২৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।

প্রথমপর্বে ১ থেকে ৫ নম্বর খিত্তায়- ঢাকা জেলা, ৬ থেকে ৮ নং খিত্তায় টাঙ্গাইল জেলা, ৯ থেকে ১১ নং খিত্তায় ময়মনসিংহ জেলা, ১২ নং খিত্তায় মৌলভীবাজার জেলা, ১৩ নং খিত্তায় বি-বাড়িয়া জেলা, ১৪ নং খিত্তায় মানিকগঞ্জ, ১৫ নং খিত্তায় জয়পুরহাট, ১৬ নং খিত্তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ নং খিত্তায় রংপুর, ১৮ ও ১৯ নং খিত্তায় গাজীপুর, ২০ নং খিত্তায় রাঙ্গামাটি, ২১ নং খিত্তায় খাগড়াছড়ি, ২২ নং বান্দরবান, ২৩ নং খিত্তায় গোপালগঞ্জ, ২৪ নং খিত্তায় শরীয়তপুর, ২৫ নং খিত্তায় সাতক্ষীরা এবং ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায় যশোর জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন।

ইজতেমা শুরুর দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে জুম্মার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসছেন।

এবারো পাঁচ স্তরের র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবায় ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইজতেমার মোনাজাতের দিন ১১৫টি ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে টঙ্গী স্টেশনে। মুসল্লিদের জন্য অজু, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার ও ভ্রাম্যমাণ টিকিট বিক্রি করা হবে। বিআরটিসির ৩৫০টি বাস মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগামী ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব-ইজতেমার প্রথম পর্ব। এরপর আগামী ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা।

LEAVE A REPLY