আপনি কি ওষুধ খেতে ভুলে যান? চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ করাটা কি আপনার জন্য ঝামেলার? টেস্ট রিপোর্ট গুছিয়ে রাখা বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়াটা কষ্টকর মনে হয় আপনার? এসব প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে আপনার জন্য প্রয়োজন এমন একটি অ্যাপস, যা আপনাকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সব সমস্যা থেকে নিমিষে মুক্তি দেবে।
কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসক ডা. অসিত বর্ধন রোগী ও চিকিৎসকদের স্বস্তির জন্য নিয়ে এসেছেন এমন একটি অ্যাপস, যার নাম ‘বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড’ সংক্ষেপে ‘বিডিইএমআর’।
জানা যায়, ডা. অসিত বর্ধনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ ক’টি দেশের একদল বাংলাদেশী চিকিৎসক, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ ৩ বছরের অক্লান্ত চেষ্টায় নির্মাণ করেছেন ‘বিডিইএমআর’ অ্যাপসটি।
গেল বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে তা গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএমআর ধারণাটি পাশ্চাত্যে চিকিৎসাসেবার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও বাংলাদেশে তা একদমই নতুন। এটি বাংলাদেশে প্রচলন করা গেলে দেশের চিকিৎসাসেবায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি চিকিৎসকের জন্য যেমন চিকিৎসা প্রদান সহজ করবে, তেমনি রোগীর জন্যও চিকিৎসকের সেবা গ্রহণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত ভোগান্তি ও ব্যয় কমিয়ে আনবে।
ইএমআর অ্যাপসে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত সবল ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন রোগীর নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর; রোগীর শারীরিক তথ্য, যেমন উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, নাড়ির গতি; রোগের বিস্তারিত ইতিহাস, যেমন রোগী এর আগে যতবার চিকিৎসকের কাছে গেছেন, যেসব শারীরিক অসুবিধা নিয়ে গেছেন তার খুঁটিনাটি বিস্তারিত বর্ণনা, রোগীর আগের সব ইনভেস্টিগেশন টেস্টের রেজাল্ট, রোগীর সব প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের নাম, ডোজ, সেবনবিধি, টিকা গ্রহণ ইত্যাদি; যেসব রোগীর দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকে, তাদের ওষুধ সেবন, চিকিৎসকের ফলোআপে যাওয়া, নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা। রোগীর ধারাবাহিক উন্নতিসহ ইএমআরে সংরক্ষিত তথ্য রোগীর চিকিৎসায় সহায়ক হয়।
বিডিইএমআর অ্যাপসে এসব সুবিধার পাশাপাশি রক্তচাপ, ব্লাড সুগারের ফলসহ যে কোনো পরীক্ষার ফল স্মার্টফোনের মাধ্যমে সেভ করে রাখা যায়। এমনকি একজন রোগী যেসব ওষুধ খাচ্ছেন, সেটাও যোগ করে রাখা সম্ভব। ওষুধ কয়টা খাওয়া হলো, কয়টা বাকি থাকল, সেটাও জানা সম্ভব। কোনো ডোজ বাদ পড়ল কিনা, বিডিইএমআরে এ বার্তাও গ্রাহককে জানায়। যারা মাঝেমধ্যে ওষুধ খেতে ভুলে যান, তাদের জন্য এটি খুবই উপযোগী।
আবার বিভিন্ন প্যাথলজি থেকে যে রিপোর্ট করা হবে সেটাও এ অ্যাপসের মাধ্যমে ফোনে, ট্যাবলেটে বা কম্পিউটারে দেখা যায়। চিকিৎসক নিজের চেম্বারে বসেই সেটা দেখতে পান। এভাবে এ অ্যাপসের মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়, খরচ কমে আসে এবং সময়ও বাঁচে।
বিডিইএমআরের মাধ্যমে আপনার প্রেসক্রিপশনটি কারও স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, বা ডেস্কটপে সংরক্ষিত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওষুধ খাওয়ার সময় সেটি রিমাইন্ডার দেয়। অ্যাপস নির্মাতার দাবি, পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এ ধরনের অ্যাপস এবং ব্যবস্থা বেশ ব্যয়বহুল। এ ধরনের বিশেষায়িত অ্যাপস হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠান, রোগী এবং চিকিৎসককে কিনতে হয়। তবে বাংলাদেশীদের জন্য বিডিইএমআর অ্যাপসটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যাপসটি এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেডিকেল কনফারেন্সে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.bdemr.patient.

LEAVE A REPLY