বাঙ্গালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন।দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর যুদ্ধ- বিধ্বস্ত দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নটি যখন রুঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি, তখন দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে মৃত্যুযন্ত্রণা শেষে পাক শাহীর বন্দীশালা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান,সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙালি,বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর ‘’স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’’ পালিত হয়েছে। গত ১১ই জানুয়ারি,বুধবার রাতে সাউথ জার্সি মেট্রো আওয়ামী লীগ এই উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। স্থানীয় গরমেট রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব আহসান হাবীব।সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক অভিজিত চৌধুরি লিটন এর সঞ্চালণায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি গোলাম হাফিজ,সহ সভাপতি আবদুল জামিল,সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শওকত শিমুল,সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ সিদ্দিক,মহিলা সম্পাদিকা রওশনউদদীন,সদস্য শামসুল ইসলাম শাহজাহান,শহীদ খান,মোঃ মাসুম, মোঃ হুমায়ুন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংগালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এর ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ।বঙ্গবন্ধু নিজেই এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন “অন্ধকার হতে আলোর পথে যাএা“।তাইতো যারা একদিন বাংলাদেশকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করতো তারাই এখন বলছে, “ বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত “। বলাবাহুল্য পাকিস্তানের মৃত্যকূপ থেকে বঙ্গবন্ধু সেদিন দেশে ফিরে এসেছিলেন বলেই সাফল্যর ভিত রচনা সম্ভব হয়েছিল।বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার পর পর বিশ্বের তৎকালীন বাঘা বাঘা বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বাংলাদেশের কোন ভবিষ্যত নেই।অথচ সব বাধার অচলায়তন অতিক্রম করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ যে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল তার নেপথ্যে যে যাদুটি কাজ করেছিল তার নাম নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধু।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এর দৃশ্যটি “প্যাট্রিয়ট” কবিতার সেই নান্দনিক দৃশ্যের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছিল বিশ্ববাসীকে। পরাধীনতার জিঞ্জির ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা মুক্ত স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মধ্যে প্রিয় নেতাকে পেয়ে আবেগে ও আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল ।অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদ অতিক্রান্ত করেছে।তৃতীয় মেয়াদের সরকারেরও তিন বছর পূর্ণ হয়েছে।বিচারহীনতার কারনে জাতির ললাটে যে কলংকতিলক ছিল তা মুছে গেছে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরে । বক্তারা বঙ্গবনধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য দেশে-বিদেশে মুজিব সৈনিকদের ঐক্যের উপর জোর দেন।

LEAVE A REPLY