ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানের সময় ৯৯টি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের ঘোষণা এসেছে। শপথ অনুষ্ঠান ভন্ডুলের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল পুলিশ, এফবিআই, ন্যাশনাল গার্ড, সিক্রেট সার্ভিস, ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস সহ ১২টি সংস্থার সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ডিসি পুলিশের প্রধান পিটার নিউশ্যাম মিডিয়াকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘যে কোন ধরনের গোলযোগ শক্তহাতে প্রতিহত করার জন্যে যথাযথ প্রস্তুতি চলছে।’ ২০ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের সামনে ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুলিশ প্রধান আরো জানান, ‘শান্তিপূর্ণভাবে শপথসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নে ৩২০০ পুলিশ অফিসার ছাড়াও থাকবে ন্যাশনাল গার্ডের ৮০০০ সদস্য এবং সামরিক বাহিনীর ৫০০০ সদস্য।’ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নিরাপত্তা বাহিনীর সশস্ত্র লোকজনের জন্যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার-উল্লেখ করেন পুলিশ প্রধান।
হোয়াইট হাউজের সূত্র আভাস দিয়েছে যে, ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান অবলোকনের জন্যে ৮ লক্ষাধিক আমেরিকান জড়ো হতে পারেন। ৮ বছর আগে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি বারাক ওবামার শপথ গ্রহণের সময় জড়ো হয়েছিলো ১৮ লাখ আমেরিকান। প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ওবামা। ওবামার শপথের দিন সবচেয়ে বেশী লোক সমবেত হয়েছেন বলে ক্যাপিটল হিল উল্লেখ করেছে। .
ট্রাম্পের শপথের সময় বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণাকারি সংস্থার ২৭টি ইতিমধ্যেই ক্যাপিটল পুলিশের কাছে অনুমতি সংগ্রহ করেছে বলে ১৩ জানুয়ারি প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়। সকল অঞ্চল থেকে বাস, রেল এবং নিজ নিজ গাড়িতে আসবেন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা। আরো ৭০টি সংস্থার আবেদন বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানায়।
আয়োজকদের পক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড থার্স্টন জানান, কাপিটল হিলে প্রবেশের জন্যে ১২টি চেক পয়েন্টেই বিক্ষোভকারিরা অবস্থান নিয়ে লোকজন প্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে। শপথ গ্রহণের পর আড়াই মাইল প্যারেড রোডের পুরোটাই দখলে নিবে ব্যানার-পোস্টার-প্লেকার্ড বহনকারিরা।’ আর এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘ডিজরাপ্ত জে২০’। এই কর্মসূচির সমন্বয়কারি লেগবা কেয়ারফোর বলেন, ‘আমরা কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে দেব না। আমরা ট্রাম্পকে দমিয়ে রাখতে চাই।’
এদিকে, ট্রাম্প ঠেকানোর মহাবিক্ষোভ কর্মসূচির সমর্থনে ডিসিসহ ৪০ সিটিতে প্রস্তুতি সমাবেশ হয়েছে চলতি সপ্তাহে। ‘ইমিগ্র্যান্টস রাইটস এ্যান্ড র‌্যাসিয়াল জাস্টিস সেন্টার’র পরিচালক কিসা ম্যাটোস এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বেঁচে থাকার অধিকার সুরক্ষায় ট্রাম্পের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। ট্রাম্পের ১০০ দিবসের কর্মসূচি দেখলেই গা শিউরে উঠে মানবিকতাসম্পন্ন প্রতিটি আমেরিকানের। সিনেটর বার্ণি স্যান্ডার্স, কংগ্রেসম্যান লুইস গুটিরেজও ছিলেন এসব প্রস্তুতি সমাবেশে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, শপথ গ্রহণের পরদিন হোয়াইট হাউজের সামনে দু’লাখ নারীর বিক্ষোভ-সমাবেশেরও প্রস্তুতি চলছে।

LEAVE A REPLY