ভারতের পূর্বাঞ্চলে নৌদুর্ঘটনায় রোববার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একথা জানান।
উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে পানিতে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে। তাই মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের বিহারে নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে। হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব মকর সংক্রান্তিতে যোগ দিয়ে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে ৪০ জন যাত্রী ছিলো বলে জানা গেছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে রোববার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয় জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের পাটনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডুবুরিদের পাশাপাশি স্থানীয়রা নৌকার মাধ্যমে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইট বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
পাটনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় কুমার আগারওয়াল জানিয়েছেন, নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ছিলো।
নৌকাডুবির ঘটনার পর ঘুড়ি উৎসব বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এ অঞ্চলে তিন দিনব্যাপী ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়।
রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব অনিরুদ্ধ কুমার টেলিফোনে বলেন, ‘উদ্ধারকর্মীরা রাতে পানি থেকে ২২টি লাশ উদ্ধার করেছে। রোববার সকালে আরো চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তীর থেকে খুব একটা দূরে নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটেনি। তাই কয়েকজন সাঁতরে নিরাপদেই তীরে উঠতে পেরেছেন।’
তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় ১৮ মাস বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নগরীর একটি হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মিতিশ কুমার এই দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যকে চার লাখ রুপী ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদি রোববার পাটনায় তার নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।

LEAVE A REPLY