মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম-রিপাবলিকান সদস্য হবার দৌড়ে অবতীর্ণ হলেন মোহাম্মদ আলী ভূইয়া। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টাস্থ ৬ষ্ঠ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেসম্যান টম প্রাইসকে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ায় শীঘ্রই এ আসনটি শূন্য হবে। রিপাবলিকানদের এ আসনের বিশেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান মোহাম্মদ আলী ভূইয়া।
১৩ জানুয়ারি শুক্রবার আনুষ্ঠানিক এ ঘোষণার সময় ঢাকার সন্তান এবং ১৯৮৬ সাল থেকে আটলান্টায় বসবাসরত অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ভূইয়া বলেন,‘বিশেষ সুবিধাবাদি গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ওয়াশিংটন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কেউই এখন আর কাজ করেন না। আমাদের সকলকে এখন সাধারণ নাগরিকের কল্যাণে মনোনিবেশ করতে হবে।’ ‘না, এমন নাজুক অবস্থার অবসান ঘটাতে কংগ্রেসে পাঠাতে হবে সৎ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যবসায়ী/শিক্ষাবিদ অথবা সমাজকর্মে পরীক্ষিতদের, যারা নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী তার ভোটারদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে’-উল্লেখ করেন ভূইয়া।
আটলান্টা সিটির সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেসম্যান হবার জন্যে গত নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন আরেক বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ড. রশীদ মালিক। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন ৪০% ভোট পেয়ে। উল্লেখ্য, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দাপট বেশী। সে অনুযায়ী, মোহাম্মদ ভূইয়া যদি দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভে সক্ষম হন, তাহলে তার বিজয় ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে রিপাবলিকান পার্টি থেকে আরো ৪ প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেননি। এরা হলেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ন্যাশনাল ডাইভার্সিটি কোয়ালিশন’র প্রধান ব্রুস লেভেল, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক সেক্রেটারি করেণ হ্যান্ডেল, অঙ্গরাজ্য সিনেটর জাডসন হিল এবং সাবেক স্টেট সিনেটর ড্যান মুডি। স্বতন্ত হিসেবেও একজনের নাম শোনা গেছে। তিনি হলেন যোসেফ পোন্ড।
এ ছাড়া, ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে ৪ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন সাবেক স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ স্যালী হারেল, এটর্নী যোশ ম্যাকলোরিন, জ্যান অসোফ এবং সাবেক স্টেট সিনেটর রোন স্লোটিন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের পরই জর্জিয়া রাজ্যের গভর্ণর নাথান ডীল ঘোষণা করবেন বিশেষ নির্বাচনের তারিখ।
মোহাম্মদ ভুইয়া নিজের নাম ঘোষণার পরই মূলধারার মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে তা প্রচারিত হচ্ছে। কারণ, রিপাবলিকানকয়েক মাস আগে পার্টি থেকে এখন পর্যন্ত কোন মুসলমান কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। আরেকটি কারণ হচ্ছে, ২০১৫ সালের নভেম্বরে আটলান্টায় শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মেলন হবার কথা ছিল। সেই সম্মেলনের হোস্ট সংগঠন ছিল ‘ইউনূস ক্রিয়েটিভ ল্যাব’ এবং এই সংগঠনের প্রধান ছিলেন মোহাম্মদ ভূইয়া। ২০১৪ সাল থেকেই প্রস্তুতি চলছিল ব্যাপকভাবে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে জীবিত ৩০ জনের মধ্যে ২১ জনই এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সম্মতি দিয়েছিলেন। সম্মেলনের কো-চেয়ার ছিলেন জিমি কার্টার। পুরো আটলান্টায় সাজসাজ রব উঠেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আটলান্টা সিটি মেয়র কাশিম রীড বেঁকে বসেন হোস্ট কমিটির অন্যতম প্রধান হিসেবে মোহাম্মদ ভূইয়ার নাম দেখে। এ নিয়ে তুমুল বিতর্কের এক পর্যায়ে মোহাম্মদ ভূইয়া অভিযোগ করেন যে, সম্মেলন আয়োজনের মূল কারিগর হিসেবে মেয়রের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে না নেয়ায় তিনি বেঁকে বসেন। ‘কারণ, মেয়র কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে মূল কারিগর হিসেবে নিতে বলেছিলেন’-উল্লেখ করেন মোহাম্মদ ভূইয়া। এ নিয়ে বাকযুদ্ধের এক পর্যায়ে আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ‘আটলান্টা সিটি’ নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। ড. মুহম্মদ ইউনূসও বিব্রত হয়ে নিজেকে সরিয়ে নেন আয়োজকদের তালিকা থেকে। অবশেষে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীদের আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়।

LEAVE A REPLY