বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজেসেবী, নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোহাম্মদ হানিফ উদ্দিনের (৮৬) নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হয়েছে। শনিবার (১৪ জানুয়ারী) বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি)-এ অনুষ্ঠিত হয়। মরহুম ডা. হানিফের মরদেহ তার নিজ গ্রাম নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত নানা রোগ সহ নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি শনিবার (১৪ জানুয়ারী) ভোর রাত ২টার দিকে নিউইয়র্কের কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি সিটির ব্রুকলীনস্থ ব্রুকডিল হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক, কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামানের পিতা। মৃত্যুকালে মোহাম্মদ হানিফ স্ত্রী মোসাম্মৎ ফজিলাতুন্নেসা, দুই পুত্র ও তিন কন্যা সহ বহু আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যারা নিউইয়র্ক এবং ওয়াহিও অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। খবর ইউএনএ’র।
মরহুম ডা. হানিফের জানাজা নামাজে ইমামতি করেন জেএমসি’র পেশ ইমাম মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। জানাজা নামাজের আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান ও জেএসসি’র পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী। মরহুমের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতা-কর্মী সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এই জানাজা নামাজে শরীক হন।
ডা. মোহাম্মদ হানিফ উদ্দিন বিগত ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র আগমন করেন এবং নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি বার্ধক্য জনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এবং জ্যামাইকার একটি নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৩ জানুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে নার্সি হোম থেকে নিকটবর্তী কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং ভোররাত ২টার দিকে হাসপাতালেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
ডা. হানিফের মরদেহ তার নিজ গ্রাম নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এজন্য রোববার (১৫ জানুয়ারী) আমিরাত এয়ারলাইন্সের রাতের ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় প্রেরণ করা হবে। মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান পিতার কফিনের সাথে ঢাকায় যাচ্ছেন।
ডা. মোহাম্মদ হানিফ উদ্দিন একজন সনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে সৈয়দপুরে খুবই জনপ্রিয়। প্রবাসী জীবনের আগে তিনি পর্যায়ক্রমে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), জাগপা ও বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই দলের রাজনীতি শুরু করেন এবং দীর্ঘ দিন নীলফামারী জেলা বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত তাকে চিনতেন, জানতেন। একজন সমাজসেবী হিসেবেও নিজ জেলায় তার ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। গরীব মানুষের সেবায় ছিলেন আতœনিবেদিত।
এদিকে ডা. মোহাম্মদ হানিফের ইন্তেকালের খবরে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও, হককথা.কম ও বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আবিদুর রহমান গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করেছেন।

 

LEAVE A REPLY