প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন ভেটিংয়ের জন্য এখন আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এই আইনের বিষয়ে প্রবাসীদের মতামত নেওয়া হবে বলে রোববার মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, “নাগরিকত্ব আইন ২০১৬ ভেটিংয়ের ক্ষেত্রে অনাবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে। শিগগিরই তাদের মতামত চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
নবনির্মিত মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন ও জেলা জজ আদালত ভবনের সম্প্রসারিত তৃতীয় তলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ৬১টি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য আবাসিক ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ে এসেছে। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি এই আইনের খসড়ায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “নতুন আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ অনেক সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগে বাংলাদেশিদের জন্য কেবল আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার আইনি সুযোগ ছিল।”
নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো বাংলাদেশি সার্কভুক্ত দেশ বা মিয়ানমারের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবে না। কেউ বিয়ের সূত্রে এসব দেশের কোনোটির নাগরিক হলে তাদের এক দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে।
এছাড়া সরকার গেজেট জারি করে যেসব দেশকে নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেসব দেশেরও দ্বৈত নাগরিক হওয়া চলবে না। এর বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন যে কোনো রাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাংলাদেশিরা এই আইনের ফলে নিতে পারবেন বলে জানান সচিব।
তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, জাতীয় সংসদের সদস্য, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সশস্ত্র বাহিনী বা প্রজাতন্ত্রের কোনো বেসামরিক পদে নিয়োজিতরা দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আনুগত্য প্রকাশ করলে; বিদেশি রাষ্ট্রের কোনো বাহিনীতে যোগ দিলে বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা ওই বাহিনীকে সহায়তা করে থাকলে তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে। এই আইন হলে বহু মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে যাবে বলে অনেকে এর সমালোচনাও করে আসছে।

LEAVE A REPLY