সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেছেন, মুসলিম রেজিষ্ট্রেশন সহ কোন ধরনের বৈষম্য নিউ ইয়র্ক সিটি অনুমোদন করবে না। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটিতে (‘অল কমিউনিটি ইউল বি রেসপেকটেড এন্ড অল কমিউনিটি ইউল বি প্রটেকেডেট’) প্রতিটি কমিউনিটিকে সম্মান করা হবে এবং প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটির ব্যানারে আগামী মেয়র নির্বাচনে ব্লাজিও’র সমর্থনে আয়োজিত এক ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গত ৮ জানুয়ারী রোববার নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার কুইন্স ভিলেজের হিল সাইড ব্যাঙ্কুয়েট হলে বাংলাদেশী আমেরিকান ফর বিল ডি ব্লাজিও ব্যনারে আয়োজন করা হয় এক ফান্ড রেইজ অনুষ্ঠানের। এতে সভাপতিত্ব করেন ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ডেন্টিস্ট ওয়াহিদুর রহমান।
বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী কমিউনিটি ও পেশাজীবিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে মুর্হুমূহৃ করতালীর মধ্যে মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, নিউইয়র্ক সিটিকে নিরাপত্তার নগরী হিসেবে আমরা এর ইমেজ ধরে রাখতে চাই। এজন্য কেউ ক্ষমতায় এসে যেন ইমিগ্র্যান্টদের কোন ধরনের আতংক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য কারো ইমিগ্র্যাশন স্টেটাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টপ এন্ড ফ্রীস্ক কর্মসূচী বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে পুলিশ ও কমিউনিটি এখন একে অপরের হয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটিকে কেউ বিভক্ত করতে পারবে না। আমি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের সময় বলেছি যে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আমরা গর্ব করি সেই নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশে ৯ শত মুসলিম সদস্য সদস্যা দিন রাত করছে। বিভক্তি কখনো নিউ ইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কল্যান বয়ে আনবে না।
বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশীদের ন্যায় এত কর্মতৎপর কমিউনিটি আর আছে বলে আমার জানা নেই। যার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে বিপুল সংখ্যক সংবাদ মাধ্যম।
মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটি হচ্ছে সকলের। এখানে আমরা বিভিন্ন মত ও পথের সকলের সহ অবস্থানকে স্বাগত জানাই। এটাই হচ্ছে নিউ ইয়র্ক তথা আমেরিকান মূল্যবোধ। এখানে ধর্ম বর্ন বা বিশ্বাসের কারণে কাউকে বৈষম্য করা হলে সেটা কোনভাবেই নিউ ইয়র্কে অনুমোদন করা হবে না।
অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডা. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, মেয়র বিল ডি ব্লাজিও দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। যার ফলে প্রতিটি মানুষ এখানে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। নিউ ইয়র্ক সিটিকে তিনি ইমিগ্র্যান্ট বান্ধব সত্যিকার একটি নগরীতে রুপান্তর করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্ত্রাসী আক্রমনের পর পর তিনি ছুটে এসেছিলেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। সেখানে তিনি সিটির মুসলিম বাসিন্দাদের ভীত সন্ত্রস্ত না হতে আস্বস্ত করেছিলেন। এছাড়া ঈদের ছুটি কার্যকর হচ্ছে মুসলিমদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পূরনের অন্যতম উদাহরণ।
এই হিসেবে আমরা আগামী নির্বাচনে বিল ডি ব্লাজিওকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র ড. নীনা আহমদ, বাংলাদেশী তরুন প্রজন্ম শারমীন শেখ, কাউন্সিলম্যান ডেরিক মিলার, ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানের অন্যতম কর্মকর্তা কমিউনিটি নেতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সালেহ আহমদ, ডা. ওয়াদুদ ভুইয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আখতার হোসেইন। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পরিচয় করিয়ে দেন ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।
অনুষ্ঠানের উদ্যেক্তা ছিলেন, সালেহ আহমদ, ডা. ওয়াদুদ ভুইয়া, আমির খান, ডা. মাহমুদুর রহমান, আজহার হক, খাজা মিজা হাসান, ড. মহসীন পাটোয়ারী, মুর্শেদ আলম, আব্দুল আজিজ ভুইয়া, মাফ মেছবাহ উদ্দীন, মোহাম্মদ হোসেইন, শামসুল ইসলাম, ডা. মোহাম্মদ মুকিত, ডা. মেছের আহমদ প্রমুখ।

                             

LEAVE A REPLY