নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় ২৬ জনের ফাঁসির মাধ্যমে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন, এই মেসেজ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রী রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা অন্য যে কেউই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না, সবারই বিচার হবে। এ রায়ের মাধ্যমে এই মেসেজই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভয়াবহ এ ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ও নির্মমতায় আমরা হতবাক হয়েছিলাম। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তকারী কর্মকর্তারা সঠিকভাবেই জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য চার্জশিট দিতে পেরেছিল। আর এ কারণেই ঘটনার ভিকটিম ও জাতি এ ঘটনার সঠিক বিচার পেয়েছেন।’

প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাবের ওপর দায় বর্তায় কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘রায়ের মাধ্যমে র্যাব খাটো হয়নি, বরং আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, সদস্যদের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান নেবে না, আর কেন নেবে? প্রতিষ্ঠান হিসেবে তো কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রতিষ্ঠান যদি দায়-দায়িত্ব নিত তবে এর (বিচারের) বিরুদ্ধে দাঁড়াত। যারা দণ্ডিত হয়েছেন তাদের সব সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব দিয়ে বিচারে সহযোগিতা করেছে। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া গেছে এবং তাদের ধরার সুযোগ হয়েছে।

রায়ের কারণে র্যাবের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দণ্ডিতরা সবাই বিপথগামী ছিল। অপকর্ম করতে কোনো বাহিনীতে তো উৎসাহিত করা হয় না বরং নিরুৎসাহিত করা হয়। তারাই তাদের অপকর্মের জন্য দায়ী। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেরাই বিপথগামী হয়েছেন। কাজেই কোনো আইন পরিবর্তনের দরকার নেই, প্রশ্নও আসে না। তাছাড়া আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে যদি তারা বের হয়ে যেত তবে আইন পরিবর্তনের প্রশ্ন আসত।’

আলোচিত এ মামলার পলাতক আসামিদের ধরার ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, তাদের খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা রয়েছে। তারা কোথায় আছে তারও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দেশে এলেই তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীমকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

আলোচিত এ মামলায় সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যাব-১১ এর সাবেক কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল সাঈদ তারেকসহ ২৬ জনের ফাঁসি ও বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেন।

LEAVE A REPLY