গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র বিদায়ী পরিচালক জন ব্রেনান ও প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। সম্প্রতি যেসব গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে তার জন্য গোয়েন্দা সম্প্রদায়কে বারবারই দুষছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে রোববার সন্ধ্যায় তিনি টুইটারের মাধ্যমে সরাসরি আঙুল তোলেন সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনানের দিকে। তবে একই দিন ফক্স নিউজের ক্রিস ওয়ালেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের এজেন্সির পক্ষ অবলম্বন করেছেন ব্রেনান। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ট্রাম্প ও তার টিমের ক্ষতি করার কোনো চেষ্টা করছে না সিআইএ। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ও তার টিমকে অবমাননা করার কোনো আগ্রহ নেই তাদের। তবে প্রকৃতপক্ষে যে বিপদ আসছে সে বিষয়ে তাদের অনুধাবন করানোর দায়িত্ব আমাদের। এসব নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প টুইট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ফক্স নিউজে সিআইএ’র বিদায়ী প্রধান জন ব্রেনান রাশিয়ার হুমকির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। পুরোপুরি কিছুই বোঝেননি। অনেক খারাপ কিছু ঘটে গেছে। সিরিয়া, ক্রাইমিয়া, ইউক্রেন ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে তাকান। খুব ভালো কিছু নয়! এসব কি ভুয়া খবর ফাঁস? ট্রাম্পের এ টুইটের জবাবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। উল্লেখ্য, প্রথমে টুইটারে ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করাকে নাৎসি জার্মানির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু এ কর্মকাণ্ডকে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনা করাকে ভয়ানক হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, এতে আমি খুব বেশি অপমানবোধ করছি। এরই মধ্যে যে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হয়ে জনসমক্ষে চলে গেছে তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দিকে ট্রাম্পের আঙুল তোলার কোনো ভিত্তি নেই। গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে জন ব্রেনানের ক্রোধ ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা খর্ব হতে পারে। জন ব্রেনান বলেন, যদি গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের ওপর তার (ট্রাম্পের) আস্থা না থাকে তাহলে তা থেকে আমাদের অংশীদার, মিত্র এমনকি আমাদের শত্রুপক্ষের কাছে কি ইঙ্গিত দেয়া হয়? উল্লেখ্য, জন ব্রেনান এর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া ইস্যুতে হুঁশিয়ার করেছেন। বলেছেন, তিনি মনে করেন না যে, রাশিয়ার হুমকির বিষয়ে বুঝতে পেরেছেন ট্রাম্প। তিনি আরো মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। জন ব্রেনানের ভাষায়, আমি মনে করি রাশিয়ার সক্ষমতা ও রাশিয়ার উদ্দেশ্য পুরোমাত্রায় অনুধাবন করতে পেরেছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, আর মাত্র কয়েকদিন দায়িত্বে বহাল আছেন জন ব্রেনান। এরপরই আসছে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা টিম। ট্রাম্প ঘোষণা করবেন তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সিআইএ’র নতুন পরিচালক ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির নাম। এ টিমই তাকে সুচিন্তিত পরামর্শ দেবেন। এটা ট্রাম্পের জন্য যতটা প্রয়োজনীয় তারচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য।

LEAVE A REPLY